বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Weekly Bangladesh নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত

আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন মিয়ানমারের, তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের

বাংলাদেশ অনলাইন :   |   শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন মিয়ানমারের, তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসাবে অভিহিত করে মিয়ানমারের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলছে, ২০১৬-১৭ সালের জাতিগত নির্মূল অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান হিসাবে জায়েজ করতে এবং বিশ্ববাসীর নজর ঘুরিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করছে মিয়ানমার। ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রাথমিক আপত্তি তোলে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসাবে চিত্রায়িত করার মাধ্যমে মিয়ানমার তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ হিসাবে প্রমাণ করতে চাইছে। এর মাধ্যমে তারা তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা শুদ্ধি অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপ হিসাবে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ একে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার কৌশল হিসাবে বর্ণনা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী যা ১৭৮৫ সালে বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ার আগেও আরাকানে শতাব্দী ধরে বিকশিত হয়েছিল। পুরাতন আরাকানের রাজধানী মায়ো-হাউং বা ম্রো-হাউং বা রোহাউং-এ তাদের উপস্থিতির কারণে তাদের চট্টগ্রামের রোশাং বা রোহাং এবং বৃহত্তর বাংলায় সম্প্রসারিতভাবে বলা হতো। তাই শুরুতে এটি একটি স্পষ্ট বহির্নামের ঘটনা ছিল। ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক জনতাত্ত্বিক বিবরণ এবং স্বতন্ত্র গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। ফলে তারা বিদেশি বা সাম্প্রতিক অভিবাসী-মিয়ানমারের এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন জারির আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে কোণঠাসা করা হলেও তারা ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ভোটাধিকার ভোগ করেছে। রোহিঙ্গাদের পদ্ধতিগতভাবে ‘বাঙালি’ বলে ডাকার উদ্দেশ্য হলো তাদের নিজস্ব পরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করা এবং জাতিগত নিধনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা। যদিও রোহিঙ্গাদের ভাষায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপভাষার সঙ্গে কিছু মিল রয়েছে, কিন্তু সংস্কৃতি ও পরিচয়ের দিক থেকে তারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।

বিজ্ঞপ্তিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ২০১৭-১৮ সালেও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নেপিডো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও গত আট বছরে তারা রাখাইনে কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেনি। এই নিষ্ক্রিয়তা রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্য হিসাবে গণ্য হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ।

এ ছাড়া ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল বলে মিয়ানমার যে দাবি করেছে, তাকে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। বাংলাদেশ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

Posted ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

Weekly Bangladesh |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
Dr. Mohammed Wazed A Khan, President & Editor
Anwar Hossain Manju, Advisor, Editorial Board
Corporate Office

86-47 164th Street, Suite#BH
Jamaica, New York 11432

Tel: 917-304-3912, 718-523-6299 Fax: 718-206-2579

E-mail: [email protected]

Web: weeklybangladeshusa.com

Facebook: fb/weeklybangladeshusa.com

Mohammed Dinaj Khan,
Vice President
Florida Office

1610 NW 3rd Street
Deerfield Beach, FL 33442

Jackson Heights Office

37-55, 72 Street, Jackson Heights, NY 11372, Tel: 718-255-1158

Published by News Bangladesh Inc.